
স্টাফ রিপোর্টার :
সরকারি নির্দেশে ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধ থাকার পরও গোপনে রোগী ভর্তি, অস্ত্রোপচার এবং অদক্ষ চিকিৎসক দিয়ে অপারেশন পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার গোমস্তাপুর বাজারস্থ গোমস্থাপুর ইসলামি হাসপাতাল নামে একটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত সোমবার ও মঙ্গলবার অন্তত চারজন রোগীর সিজার ও অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশন করা হয়েছে। বিষয়টি সরেজমিন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভুয়া বা জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে লাইসেন্স গ্রহণের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ক্লিনিক অংশের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে লিখিতভাবে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং বৈধ কাগজপত্র যাচাই না হওয়া পর্যন্ত ক্লিনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, সেই নির্দেশ অমান্য করেই গোপনে রোগী ভর্তি ও অস্ত্রোপচার চলতে থাকে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগষ্ট) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্লিনিকের কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনরা সেখানে অবস্থান করছেন। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক সিজার রোগীর স্বামী, “সেলিম” বলেন, ক্লিনিক মালিক নকিব আমার মামা, সেই সুবাদে “সোমবার রাতে আমার স্ত্রীর সিজার করা হয়েছে। আমরা জানতাম না যে ক্লিনিকটি সরকারি নির্দেশে বন্ধ রয়েছে।”
আরেক রোগী, চকপুস্তম এলাকার “রিয়া”, জানান, “আমাকে মঙ্গলবার অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশন করা হয়। পরে শুনেছি, ক্লিনিকের লাইসেন্স নিয়ে জটিলতা রয়েছে। বিষয়টি আগে জানলে অন্যত্র চিকিৎসা নিতাম।”
একজন রোগীর স্বজন, “জাহিদ”, অভিযোগ করে বলেন, “ক্লিনিক বন্ধ থাকার কথা সাধারণ মানুষ জানে না। রোগীরা বিপদের মুখে পড়ছেন। প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।”
অনুসন্ধানে জানা যায়, অপারেশনগুলোতে অভিজ্ঞ ও অনুমোদিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরিবর্তে অদক্ষ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।
এ বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ক্লিনিকের ম্যানেজার মিজানুর রহমান অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বীকার করেন যে, নিষেধাজ্ঞার পরও কিছু চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “রোগীদের চাপে কিছু কার্যক্রম চালাতে হয়েছে।”
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নকিব হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্লিনিক বন্ধের সরকারি নির্দেশনার বিষয়টি স্বীকার করেন।
তিনি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা ভালো নয় বলে উল্লেখ করেন। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে প্রতিনিধিকে আর্থিক সুবিধা দেওয়ারও প্রস্তাব দেন, যা সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী।
এ বিষয়ে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, এটি রোগীদের জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা সিভিল সার্জন ডাঃ এ,কে,এম, শাহাব উদ্দীন জানান, “যদি লিখিত নির্দেশনা অমান্য করে ক্লিনিক পরিচালনার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—সরকারি নির্দেশে বন্ধ থাকা একটি ক্লিনিকে কীভাবে রোগী ভর্তি ও অস্ত্রোপচার চলতে পারে? আর এর পেছনে কারা জড়িত? এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে সাধারণ মানুষ।