শ্রীপুর প্রতিনিধি:
শ্রীপুরের টেংরা পশ্চিমপাড়া এলাকায় এক নারী সহকর্মীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দিনের পর দিন শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে পারভেজ নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযোগটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারী নারীর দাবি, পারভেজ তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এমনকি কোরআন শরিফ স্পর্শ করে বিয়ের বিষয়ে শপথও করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করে তিনি নানা টালবাহানা করছেন বলে অভিযোগকারীর দাবি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পারভেজকে ঘিরে এর আগেও নারী-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগের কথা এলাকায় শোনা গেছে। তবে পূর্বের অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা, মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা হয়েছিল কি না—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
একজন নারী যখন বিয়ের প্রতিশ্রুতির ওপর বিশ্বাস করে কোনো সম্পর্কে জড়ান, তখন সেই প্রতিশ্রুতির সত্যতা ও উদ্দেশ্য তদন্তের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। একই সঙ্গে অভিযোগকারী নারী কী পরিস্থিতিতে সম্পর্কে জড়িয়েছেন, তার সম্মতি কীভাবে তৈরি হয়েছিল এবং শুরু থেকেই বিয়ের বিষয়ে পারভেজের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল—এসব প্রশ্নেরও উত্তর প্রয়োজন।
তবে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ঘটনায় কোনো নারীকে একতরফাভাবে দায়ী বা অপমানজনকভাবে উপস্থাপন করাও সমীচীন নয়। অভিযোগ সত্য হলে দায় নির্ধারণ করবে তদন্ত ও আইন; আর অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটিও প্রমাণের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে কারও কারও পক্ষ থেকে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে—এমন অভিযোগও স্থানীয়ভাবে উঠেছে।
তবে এ অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে কারও বিরুদ্ধে অর্থ নেওয়া বা সংবাদ গোপনের অভিযোগকে সত্য হিসেবে প্রচার না করে, অর্থ লেনদেনের কোনো প্রমাণ, সাক্ষ্য বা নথি থাকলে তা যাচাই করা জরুরি।
ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, অভিযোগকারীর বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে পারভেজের বক্তব্য পাওয়া গেলে সেটিও প্রতিবেদনে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগকারী নারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার মর্যাদা ও আইনগত অধিকার রক্ষা করেই ঘটনার সত্যতা নির্ধারণ করা জরুরি।
প্রশ্ন একটাই—বিয়ের প্রতিশ্রুতি কি সত্যিই ছিল, নাকি সেই প্রতিশ্রুতিকে ব্যবহার করে সম্পর্ক তৈরি করা হয়েছিল? উত্তর মিলবে নিরপেক্ষ তদন্তেই।