
করিমোল্লাহ্ স্টাফ রিপোর্টারঃ
গ্রামীণ পর্যায়ে বিরোধ ও ছোটখাটো মামলা দ্রুত, সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে নিষ্পত্তিতে গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার আহ্বান জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধি ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ।
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ছত্রাজিতপুর ইউনিয়ন পরিষদে ইউনিয়ন পরিষদ ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে গ্রাম আদালত বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জনাব মোঃ গোলাম রাব্বানী। তিনি বলেন, গ্রামের মানুষকে দ্বন্দ্ব-সংঘাত থেকে দূরে থাকতে হবে। কোনো সমস্যা বা বিরোধ দেখা দিলে স্থানীয়ভাবে পঞ্চায়েত বসিয়ে বিচার করার পরিবর্তে আইনসম্মতভাবে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে তা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, গ্রাম আদালত খুব অল্প সময়ের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের সুযোগ তৈরি করে। ইউনিয়নের সব মানুষের সেবা দেওয়ার জন্য গ্রাম আদালত সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষকে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় কাজী মামুনার রশিদ গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, এখতিয়ার ও কার্যকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি উপস্থিত ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দকে নিজ নিজ এলাকায় সাধারণ মানুষকে গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে জানানোর অনুরোধ করেন।
এ সময় তিনি গ্রাম আদালতের আওতাভুক্ত ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আইনের আওতাভুক্ত বিরোধ বা অপরাধ সংঘটিত হলে তা অনানুষ্ঠানিকভাবে পঞ্চায়েত বা সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি না করে ইউনিয়ন পরিষদে অবস্থিত গ্রাম আদালতের মাধ্যমে আইনসম্মতভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
সভায় উপস্থিত যুব প্রতিনিধি জনাব করিমোল্লাহ বলেন, গ্রাম আদালত নিয়ে আজকের আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউনিয়নের সব মানুষের এ বিষয়ে জানা প্রয়োজন। যেসব সমস্যা পারিবারিকভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়, সেগুলো গ্রাম আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, প্রচলিত গ্রামীণ সালিশে অনেক সময় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জোরপূর্বক কম-বেশি অর্থদণ্ড দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে অনানুষ্ঠানিক সালিশের পরিবর্তে ইউনিয়ন পরিষদে অবস্থিত গ্রাম আদালতের মাধ্যমে আইনসম্মতভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালতকে কার্যকর করতে জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতা, যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। গ্রাম আদালতের এখতিয়ার, কার্যক্রম ও সেবা সম্পর্কে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো গেলে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সময়, অর্থ ও ভোগান্তিও কমবে।
মতবিনিময় সভায় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, যুব প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।