গোলজার রহমান ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর ধামইরহাটে অবৈধ ম্যানেজিং কমিটি গঠন, দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সফিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে।
রোববার (২ আগষ্ট) দুপুর দুইটার দিকে নিমতলী বাজার দুতলা বিল্ডিংয়ের একটি কক্ষে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, মরহুম মোখলেছুর রহমান চৌধুরীর দানকৃত জমির উপর ধামইরহাট সরকারি মফিজ উদ্দিন মেমোরিয়াল ডিগ্রী কলেজ ও সফিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়।
নিয়ম অনুযায়ী দাতা সদস্যদের ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিতে রাখা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ও গ্রহণযোগ্য থাকলেও প্রধান শিক্ষক পেশি শক্তি খাটিয়ে কমিটির তালিকা থেকে দাতা সদস্যদের না রেখে একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাদের খুশি করতে বিদ্যালয়ের বিধি বহির্ভূত ও সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে বিতর্কিত একটি ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়।
সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, অবৈধ কমিটির কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভর্তি ও অন্যান্য খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়, বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎসহ নানান অনিয়মের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়।
প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা জানান, সরকারি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের না জানিয়ে গোপনে অনিয়মের মাধ্যমে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে তা বাতিল করে দাতা সদস্যদের যুক্ত করে নতুন একটি কমিটি গঠন করার আহ্বান জানানো হয়।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান বলেন, `জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকারের নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যালয়ে একটি এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাছাড়া দাতা সদস্য বলতে কি বুঝায়? তারা তো অন্যান্য কমিটিতে আছেন। নিয়মিত কমিটি হলে সে ক্ষেত্রে একটা আলাদা বিষয় ছিল।`
অর্থ আত্মসাৎতের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলন যারা করেছেন, গত শনিবার আমার অফিসে এসে সিসি ক্যামেরা ভেঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন। প্রধান শিক্ষকর একরকম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলেও জানান তিনি।